নিউজ ডেস্কঃ বর্তমান সরকারের নানামুখী পদক্ষেপে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এডিস মশার বিস্তার রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দেশব্যাপী প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়। সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কম। গত বছর ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৩২৪ জন এবং ১০৪ জনের মৃত্যু হয়। এদিকে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ২৪৩ জন, আর মৃত্যু হয়েছে ৬৫ জনের।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতোমধ্যে সারা দেশে সচেতনতামূলক র্যালি, বাউল গানের মাধ্যমে প্রচারণা, সপ্তাহে একদিন পরিচ্ছন্নতা অভিযান, কমিউনিটি মিটিং, উঠান বৈঠক এবং জনসচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ চালু, চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ, ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত, রিএজেন্ট ও টেস্টিং কিট সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার স্যালাইনের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়াও আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মশাবাহিত এই রোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের সাতটি সিটি কর্পোরেশন। নিজ নিজ এলাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় পৃথক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে তারা।
এবার প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ’ পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। অন্যদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুর ও সংগীতভিত্তিক ব্যতিক্রমধর্মী প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। যার ফলে চলতি বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা, ড্রেন পরিষ্কার এবং মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় নিয়মিত এ কার্যক্রম চলছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল পরিদর্শনের সুযোগ পান না। তাই বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়া সবার দায়িত্ব। করোনাকালে যেমন সবাই একযোগে কাজ করেছে, তেমনি ডেঙ্গু প্রতিরোধেও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মন্তব্য (০)