• লিড নিউজ
  • জাতীয়

‎সংসদ নির্বাচনের পথ-নকশা, সেপ্টেম্বরে সংলাপে বসবে নির্বাচন কমিশন

  • Lead News
  • জাতীয়

ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্কঃ আগামী সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজসহ আট শ্রেণির অংশীজনের সঙ্গে সংলাপে বসবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর পাশাপাশি সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত, দল নিবন্ধন, পর্যবেক্ষক সংস্থা চূড়ান্ত করাসহ ২৪টি কাজকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী পথনকশা (রোডম্যাপ) ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।

‎গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ইসির জ্যেষ্ঠ সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই পথনকশা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা আমাদের কার্যপরিকল্পনা জানাচ্ছি।

‎আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে লক্ষ্য করে পদক্ষেপগুলোকে মূলত ২৪টি ভাগে ভাগ করে আমরা এই পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছি।’

‎এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার পর তাদের মতামত অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনায় নতুন বিষয় সংযোজন হতে পারে। তবে কিছু বিয়োজন হবে না।
‎তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপিসহ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ইসির পথনকশাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলেছে, জুলাই সনদ ঘোষণার পর এটা দিলে ভালো হতো।

‎এর আগে গত বুধবার ইসির বৈঠকে পথনকশায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এর বিস্তারিত দিক তুলে ধরা হয়। সেখানে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট আয়োজনের লক্ষ্য পূরণে নির্বাচনী আইন-বিধি সংস্কার, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, পোস্টাল ভোটিং, দেশি-বিদেশি সাংবাদিক অনুমোদন; নির্বাচনের জনবল ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা, নির্বাচনী দ্রব্যাদি সংগ্রহ, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কার্যক্রম; ম্যানুয়াল, প্রশিক্ষণ; নির্বাচনী বাজেট বরাদ্দ, প্রচারণা ও উদ্বুদ্ধকরণ, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সুসংহতকরণ, বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফল প্রচার, প্রদর্শন, প্রকাশ, প্রচার ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে।

‎নির্বাচনের তপশিল ও ভোট কবে হবে– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘ভোট গ্রহণের ৬০ দিন আগে তপশিল দেওয়া হবে। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর নির্বাচন কমিশনকে আগামী রমজানের আগে ভোট করার জন্য বলেছে। আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে, তাহলে ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু। আবার রমজান তো চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এভাবে নির্বাচনের তারিখ বের করতে পারেন।’
‎গণপরিষদ, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের  দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা জাতীয় নির্বাচনের জন্য। কাজেই সংসদ নির্বাচনের বাইরে অন্য কিছু ভাববার সুযোগ নেই আমাদের।

‎অবাধ-শান্তিপূর্ণ ভোটে স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নিশ্চিতে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করা এবং নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার রোধকে আগামী নির্বাচনের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করে ইসি সচিব বলেন, একটু পরই কী ঘটবে– সেটা বলার মতো ভবিষ্যৎদ্রষ্টা আমরা নই। পরিস্থিতি আসবে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মানসিক দৃঢ়তা ইসির রয়েছে।

‎সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। এটা সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে, দেখবে।
‎ইসি ঘোষিত পথনকশার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হচ্ছে:

‎অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ
‎রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিকসহ আট শ্রেণির অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হবে। শেষ হতে সময় লাগবে দেড় মাস, যা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শেষ হবে।

‎ভোটার তালিকা হালনাগাদ
‎ইতোমধ্যে দ্বিতীয় ধাপের সম্পূরক খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা চূড়ান্ত করা হবে ৩১ আগস্ট। আর ৩১ অক্টোবরের সম্পূরক তালিকা শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ৩০ নভেম্বর।

‎নির্বাচনী আইন-বিধি
‎গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং অন্যান্য আইন-বিধি ৩১ আগস্টের মধ্যে সংশোধনের প্রস্তাব ও প্রণয়ন করা হবে। এ ছাড়া সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন সংশোধন, ভোটার তালিকা আইন সংশোধন, সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত; দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সংবাদিক নীতিমালা চূড়ান্ত; নির্বাচন পরিচালনা (সংশোধন) আইন ২০২৫; নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০৯ সংশোধনের কাজ আইন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন। এটা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশা করছে ইসি।

‎দল নিবন্ধন
‎১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক নিবন্ধনের কাজ শেষ করা হবে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

‎সীমানা নির্ধারণ
‎১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জিআইএস ম্যাপ প্রস্তুত ও প্রকাশ হবে।

‎পর্যবেক্ষক নিবন্ধন
‎নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন ২২ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত করে ১৫ নভেম্বর নিবন্ধন সনদ দেওয়া হবে। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের অনুমতির যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করা হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে।

‎নির্দেশিকা মুদ্রণ
‎নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অন্য আইন-বিধিমালা একীভূতকরণ এবং নির্বাচনী ম্যানুয়েল-নির্দেশিকা প্রণয়নের কাজ শেষ হবে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে। নির্বাচনী ম্যানুয়েল, নির্দেশিকা, পোস্টার, পরিচয়পত্র ইত্যাদি মুদ্রণ শেষ হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে।

‎প্রশিক্ষণ কার্যক্রম
‎ভোট-সংশ্লিষ্ট ১২ লাখের বেশি কোর প্রশিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে আজ শুক্রবার থেকে। ভোট গ্রহণের ৪-৫ দিন আগে যাবতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষ করবে ইসি।

‎পোস্টাল ভোটিং ও ব্যালট
‎প্রবাসী ও দেশি ভোটারদের পোস্টাল ব্যালট প্রকল্প অনুমোদন, সফটওয়্যার চূড়ান্ত, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, নিবন্ধন, প্র্যাক্টিসিং মডিউল ও প্রচারের কাজ অক্টোবরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। প্রবাসে নভেম্বরে ব্যালট পেপার পাঠানো ও কারাবন্দিদের ভোটের দুই সপ্তাহ আগে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

‎আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত
‎আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম সভা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হবে ৩১ অক্টোবর। এর পর তপশিল ঘোষণার আগে-পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক হবে। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনূকূলে অর্থ বরাদ্দের জন্য বৈঠক হবে ১৬ থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে।

‎অন্যান্য বিষয়
‎ব্যবহার উপযোগী স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স চূড়ান্ত করা হবে ৩০ নভেম্বর মধ্যে। ১৫ নভেম্বর চূড়ান্ত করা হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাজেট। নির্বাচনের জন্য জনবল ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এবং ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত শেষ হবে ৩০ সেপ্টেম্বরে মধ্যে।

‎এদিকে নির্বাচনের সরঞ্জাম সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম শেষ করা হবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। ১৫ নভেম্বর মধ্যে নির্বাচনী তথ্য প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়, টিঅ্যান্ডটি, বিটিআরসিসহ বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সঙ্গে সভা করবে ইসি। ৩১ অক্টোবরের আইসিটি-সংক্রান্ত এবং ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচার কাজ শেষ করতে চায় ইসি। এর মধ্যে রয়েছে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা, ফলাফল প্রকাশ ও প্রচার প্রক্রিয়া এবং বেসরকারি ফলাফল প্রচার-সংক্রান্ত কার্যক্রম নির্ধারণ। এ ছাড়া ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও ব্রিফিংয়ে যোগদানের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হবে।

মন্তব্য (০)





image

সবজির পর এবার ঊর্ধ্বমুখী মুদি পণ্যের

নিউজ ডেস্ক : বাজারে গত ২ মাস ধরেই সবজির দাম বেশ চড়া। এরমধ্যে বেড়েছে মুদি...

image

‎আগামীর বাংলাদেশে তরুণরাই রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও গুণগত ...

নিউজ ডেস্কঃ অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহি...

image

সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের তাগ...

নিউজ ডেস্ক : সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পাশাপাশি নিরপেক্ষতার সঙ্...

image

প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন: পুরোনো দ্বন্দ্বে নতুন উত্ত...

নিউজ ডেস্কঃ দেশে প্রকৌশল শিক্ষার দুই ধারা বিএসসি ও ডিপ্লোমাধ...

image

এবারের নির্বাচন হবে ঝুঁকিপূর্ণ, কেউ অন্যায়ে জড়ালে ছাড় দেও...

নিউজ ডেস্কঃ নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছে...

  • company_logo