• সমগ্র বাংলা

নানা প্রতিকূলতা জয় করে উচ্চ মাধ্যমিকে চাটমোহর উপজেলা সেরা আঁখি

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সংগৃহীত

পাবনা প্রতিনিধিঃ জীবনের নানা প্রতিকূলতা, পারিবারিক সংকট ও সংসারের দায়িত্ব সামলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার আঁখি খাতুন। 

সদ্য প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করে তিনি উপজেলায় সেরা হয়েছেন। তাঁর এমন সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।

আঁখি চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা গ্রামের আকমল হোসেন ও মধু খাতুন দম্পতির সন্তান।

জন্মের মাত্র দুই বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। পরে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করলে দাদির তত্ত্বাবধানে শুরু হয় তাঁর বেড়ে ওঠা। মানসিক প্রতিবন্ধী মায়ের একমাত্র সন্তান আঁখিকে শৈশব থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে হয়েছে। তবে এসব বাধা তাঁর শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও স্বপ্নকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।

মেধাবী আঁখি এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১১৭৫ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে ছাইকোলা ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। কলেজজীবনে ভালোবেসে বিয়ে করে সংসারজীবন শুরু করলেও পড়ালেখা বন্ধ করেননি। স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির উৎসাহ এবং সহযোগিতায় সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চালিয়ে যান পড়াশোনা। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায়ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। সব প্রতিকূলতা জয় করে এবার মানবিক বিভাগ থেকে ১০৯১ নম্বর পেয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন আঁখি।

তাঁর স্বপ্ন শুধু ভালো ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে চান তিনি। তাঁর প্রথম পছন্দ বিচার বিভাগ। পাশাপাশি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করার স্বপ্নও রয়েছে তাঁর। এই স্বপ্ন পূরণে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন মেধাবী এই শিক্ষার্থী।

ছাইকোলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সদ্য প্রকাশিত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে সার্বিক ফল বিপর্যয়ের মধ্যেও তাঁর কলেজ উপজেলায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। কলেজ থেকে আঁখি খাতুন, উম্মুল খাইর সাফিয়া ও মোছা. তামিম সরকারসহ তিনজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ অর্জনে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আঁখি খাতুন বলেন, তাঁর লেখাপড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান দাদির। পাশাপাশি মা-বাবা, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও শিক্ষকদের অবদানও অপরিসীম। তাঁরা সবসময় উৎসাহ ও সহযোগিতা করেছেন। আগামীর স্বপ্ন পূরণে সবার দোয়া কামনা করেন তিনি।

আঁখির সাফল্যে আনন্দিত তাঁর শাশুড়ি রওশনারা খাতুন। তিনি বলেন, তাঁর বউমা অত্যন্ত পরিশ্রমী। সংসারের সব দায়িত্ব সামলেও প্রতিদিন নিয়মিত সাত থেকে আট ঘণ্টা পড়াশোনা করেছে। ভবিষ্যতেও আঁখির পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আঁখির এই অর্জনে গর্বিত ছাইকোলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আঁখির এই সাফল্য শুধু তাঁর পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে না, বরং এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদেরও প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

মন্তব্য (০)





  • company_logo