নিউজ ডেস্ক : ভারতের অন্ধ্র প্রদেশে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বা ১.০৩ ট্রিলিয়ন রুপির (প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা) একটি মেগা তেল শোধনাগার ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ভারত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল)। প্রকল্পটির প্রাথমিক কাজ ও জমি অধিগ্রহণ এগিয়ে নেওয়ার পর এবার পরিবেশগত ও উপকূলীয় এলাকার ছাড়পত্রও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত ২৭ অক্টোবর এসংক্রান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এর ফলে প্রকল্পটির মূল নির্মাণকাজ শুরুর পথ আরো সহজ হয়েছে।
অন্ধ্র প্রদেশের নেলোর জেলার রামায়াপত্তনম বন্দরের কাছে ৫২০০ একর জমির ওপর এই বিশাল গ্রিনফিল্ড কমপ্লেক্সটি গড়ে উঠবে। এই শোধনাগারের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ধরা হয়েছে ৯ মিলিয়ন টন।
প্রকল্পটি চালু হলে এখান থেকে পেট্রোল, ডিজেল ও এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের মতো ৫.৪ মিলিয়ন টন পরিবহন জ্বালানির পাশাপাশি পলিপ্রোপিলিন, পিভিসি, এলডিপিই, ফেনল ও অ্যাসিটোনের মতো ৩.২ মিলিয়ন টন উচ্চমানের পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদিত হবে।
প্রকল্পটির বিশালতা ও পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে বেশ কিছু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশগত প্রভাব কমাতে মোট জমির ৩০ শতাংশ এলাকা জুড়ে নিবিড় সবুজ বেষ্টনী (গ্রিনবেল্ট) গড়ে তোলা হবে। পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার জন্য ৩০২২ কোটি টাকা এবং স্থানীয় পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর সামাজিক উন্নয়নে কর্পোরেট পরিবেশগত দায়বদ্ধতা বাবদ আরো ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে যে, প্রস্তাবিত স্থানটির ১০ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে কোনো জাতীয় উদ্যান বা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য নেই।
বিশাল এই অবকাঠামোর পরিচালনগত প্রয়োজনীয়তা মেটাতে তৈরি করা হচ্ছে নিজস্ব সমাধান। প্রতিদিনের দুই লাখেরও বেশি ঘনমিটার মিঠা পানির চাহিদা পূরণে সমুদ্রের পানি শোধন করার জন্য একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট বসানো হচ্ছে, যার জন্য দুটি পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক ৬২৪০০০ ঘনমিটার সমুদ্রের পানি উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়া কমপ্লেক্সটির ৭৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার মধ্যে ১৮৫ মেগাওয়াট নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে তৈরি হবে এবং বাকি ৫৮৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিড থেকে সংগ্রহ করা হবে।
উল্লেখ, ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা ও ভবিষ্যতের বাজার ধরতে বিপিসিএল দীর্ঘদিন ধরেই এই মেগা প্রজেক্টের পরিকল্পনা করে আসছে।
এর আগে বিপিসিএলের চেয়ারম্যান সঞ্জয় খান্না জানিয়েছিলেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের দৈনিক জ্বালানি তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়তে পারে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখেই রামায়াপত্তনমের মতো কৌশলগত স্থানে এই প্রকল্প গড়ার প্রাথমিক মূল্যায়ন ও জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়েছিল, যা এখন পরিবেশগত ছাড়পত্র লাভের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পথে রয়েছে। বর্তমানে মুম্বাই, কোচি ও বিনার তিন শোধনাগার মিলিয়ে কম্পানির বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ৩ কোটি ৫৩ লাখ মেট্রিক টন, যা ২০২৮ সালের মধ্যে ৪ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদী ‘প্রজেক্ট অ্যাসপায়ার’-এর অংশ হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশের এই শোধনাগারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতির বিচারে এ প্রকল্পটি এক নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে। নির্মাণ পর্যায়ে প্রায় ১৪০০০ এবং বাণিজ্যিক পরিচালনা পর্যায়ে ৫০০০-এর বেশি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এই কমপ্লেক্সে সবুজ হাইড্রোজেন, নবায়নযোগ্য শক্তির অঞ্চল এবং একটি মেগা সামুদ্রিক অপরিশোধিত তেল টার্মিনাল অন্তর্ভুক্ত থাকায় অন্ধ্রপ্রদেশ অঞ্চলটির একটি অন্যতম প্রধান জ্বালানি হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনীতির বিচারে এ প্রকল্পটি এক নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে। নির্মাণ পর্যায়ে প্রায় ১৪০০০ এবং বাণিজ্যিক পরিচালনা পর্যায়ে ৫০০০-এর বেশি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এই কমপ্লেক্সে সবুজ হাইড্রোজেন, নবায়নযোগ্য শক্তির অঞ্চল এবং একটি মেগা সামুদ্রিক অপরিশোধিত তেল টার্মিনাল অন্তর্ভুক্ত থাকায় অন্ধ্রপ্রদেশ অঞ্চলটির একটি অন্যতম প্রধান জ্বালানি হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
মন্তব্য (০)