চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নকর্মীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্মিত হচ্ছে পরিচ্ছন্ন-কর্মী নিবাস। নগরীর পাথরঘাটার সেবক কলোনি, ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ড, ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ড, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড এবং সাগরিকা এলাকায় চসিকের সেবকদের জন্য মোট সাতটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব ভবনে মোট ১ হাজার ৩৬টি সেবকের পরিবার বসবাসের সুযোগ থাকবে। সাতটি ভবনের মধ্যে পাঁচটি ভবনের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া বাকি দুটি ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান। এ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১৩০ কোটি ১২ লাখ টাকা এবং প্রকল্পের অগ্রগতি ৪৩ শতাংশ। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্ন-কর্মী নিবাস নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনগুলোর প্রতিটি ইউনিটে একটি করে ফ্ল্যাট পাবেন পরিচ্ছন্ন-কর্মীরা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩০৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আকার হবে প্রায় ৬০০ বর্গফুট। যাতে থাকবে দুটি শোবার ঘর, রান্নাঘর, বারান্দা ও শৌচাগার। এ আবাসন প্রকল্পে স্কুল, উন্নতমানের ডে কেয়ার, উপাসনালয়, বিনোদন কেন্দ্র, সীমানা প্রাচীর, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন এবং নিজস্ব পানির সুব্যবস্থাও থাকবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পরিচ্ছন্ন-কর্মীদের মৌলিক অধিকারসহ শিক্ষা, বাসস্থান, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে। এসব ভবনের মধ্যে পাথরঘাটার সেবক কলোনিতে দুটি ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ১৪ তলা নির্মাণাধীন ভবনের ১১ তলার কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে থাকবে মোট ১৬৫টি ফ্ল্যাট। অপর ভবনটির ৮ তলার কাজ শেষ হয়েছে। সেখানে ১১৯টি ফ্ল্যাট থাকবে। আরেকটি ১৪ তলা ভবনের নির্মাণ কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্পে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সিটি পল্লীতে বসবাসরত ১ হাজার ৩৬ জন পরিচ্ছন্ন-কর্মীর জন্য একটি করে ফ্ল্যাটের কথা বলা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন-কর্মীদের জন্য নির্মাণাধীন ভবনগুলোর সকল ফ্ল্যাটই হবে আধুনিক মানের। বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৪৩ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৩০ কোটি ১২ লাখ টাকা। নগরীর ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে ১৪ তলা ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এই ভবনে থাকবে ১৩০টি ফ্ল্যাট। ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ডের ওই ভবনের ১০ তলার কাজ চলমান রয়েছে। এই ভবনেরও ১৩০টি ফ্ল্যাট থাকবে। ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ডের ভবনটিরও ১০ তলার কাজ চলমান রয়েছে। ভবনটিতে ১৪৩টি ফ্ল্যাট থাকবে। এছাড়া, সাগরিকা এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নির্ণাধীন ভবনটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, প্রকল্পটির পূর্বে ব্যয় ছিল ২৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারের অনুদান ছিল ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ১৮৫ কোটি ১৪ লাখ এবং ৪৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা চসিকের নিজস্ব ফান্ড থেকে দেয়ার কথা ছিল। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নের সিদ্ধান্ত দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে ২৩১ কোটি ৪২ লাখ থেকে ৩০৯ কোটি ৩৫ টাকায় উন্নীত হয় এবং প্রকল্প ব্যয় পুরোটায় সরকারি অর্থায়নে হবে।
প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন চাওয়া হয়। তিনি সেসময় বিষয়টি পরিচ্ছন্ন-কর্মীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে জানান তিনি। চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগে মোট স্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ৫০৫ জন এবং অস্থায়ী শ্রমিক ৮৩৪ জন। স্থায়ী-অস্থায়ী শ্রমিক সংখ্যা ১ হাজার ৩৩৯ জন। অন্যদিকে, ডোর টু ডোর প্রকল্পে শ্রমিক সংখ্যা ১ হাজার ৮৮৯ জন বলে অফিস সূত্রে প্রকাশ।
মন্তব্য (০)