নিউজ ডেস্কঃ ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরিয়ে শেষ পর্যন্ত কারাগারে পাঠানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ও ভোটার তালিকায় কারসাজি করে ভোট চুরি করা হয়েছে। এ কারণে ওই নির্বাচনকে অবৈধ বলেও দাবি করেছেন তিনি।
আজ রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমাবেশে হিন্দিতে দেওয়া বক্তব্যে রাহুল বলেন, এই ভোট চুরি সাধারণ কোনো চুরি নয়। এটি ভারতের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর চুরি। একে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয়।
তিনি আরও বলেন, জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, অমিত শাহও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন, ইভিএম এবং ভোটার তালিকায় কারসাজির মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, নির্বাচনের পর ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ওই নির্বাচনে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৩ শতাংশ।
রাহুল বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচন অবৈধ ছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্যই তা বলছে।
২০২০-২১ সালে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব নিয়ে তার আগের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমি যা বলি, তা শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হয়, তাই না?
এরপর ভারতের নাগরিক ও তরুণদের উদ্দেশে রাহুল বলেন, আমি প্রত্যেক নাগরিক ও তরুণকে বলছি, জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানো হবে। জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে যেতে হবে।
ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলে নেওয়ার জন্য বিজেপির আদর্শিক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সমালোচনাও করেন রাহুল। তার অভিযোগ, শিক্ষা থেকে শুরু করে তদন্তকারী সংস্থা—দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে সংগঠনটি।
রাহুল বলেন, এর ফলে কৃষক, শ্রমিক ও তরুণেরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হিন্দু পুরাণের উদাহরণ টেনে নিজের কল্পিত ভারতের চিত্র তুলে ধরেন তিনি। রাহুল বলেন, শিবের বিয়ের শোভাযাত্রায় যে কেউ যোগ দিতে পারে। কাউকে বাধা দেওয়া হয় না। আমরা এমন ভারত চাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা গণতন্ত্রের অবসান হতে দেব না। সংবিধান ধ্বংস করতে দেব না। আপনাদের যত অর্থই থাকুক, আপনারা সংবিধানের চেয়ে বড় নন। সংবিধানই আপনাদের চেয়ে বড়। বিজেপি অর্থের জোরে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রাহুলের আগে বক্তব্য দেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের পাশাপাশি মহারাষ্ট্র, বিহার ও উত্তর প্রদেশের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারও ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে।
খাড়গে বলেন, তাদের ভোট কে দেয়? তারা নিজেরাই নিজেদের নির্বাচিত করে! জনগণ তাদের নির্বাচিত করে না। বর্তমান
কেন্দ্রীয় সরকার এবং মহারাষ্ট্র, বিহার ও উত্তর প্রদেশের সরকার—সবই ভোট চুরির সরকার। এই চোরদের সরাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মোদী ক্ষমতা থেকে না সরলে গণতন্ত্র টিকে থাকবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও।
মন্তব্য (০)