ছবিঃ সিএনআই
ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর এলাকা অবৈধ বালু উত্তোলনের থাবায় মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সিএন্ডবি ঘাট এলাকার এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে গত কয়েক বছরে প্রায় এক হাজার পরিবার তাদের বসতভিটা, ফসলি জমি, আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল ও মাদ্রাসা হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। সর্বস্ব হারানো এসব মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পালাবদলের সাথে সাথে প্রভাবশালী এই চক্রটি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পদ্মা নদী থেকে নির্বিচারে বালু কেটে বিক্রি করে আসছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর সরাসরি সহযোগিতায় পরিচালিত এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা জানান, মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের সরকারি অনুমতি (ইজারা) নিয়েছিল ওই চক্রটি। কিন্তু নিয়মবহির্ভূতভাবে হরিরামপুরের পরিবর্তে ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর এলাকা থেকে গত কয়েক বছর ধরে ড্রেজার বসিয়ে বালু কাটা হচ্ছে। ভৌগোলিক সীমানা কাছাকাছি হওয়ার সুযোগ নিয়ে এই ভুয়া কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অবৈধ এই বালু উত্তোলনের নেতিবাচক প্রভাবে চলতি বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। আকস্মিক ভাঙনে মাত্র কিছুদিনের মধ্যে নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা। ধসে পড়েছে কয়েকটি বড় কালভার্টসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সব মিলিয়ে এই ভাঙনে শত শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বসতভিটা হারিয়ে শত শত মানুষ বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোস্তফা ও সরোয়ার বলেন, “মানিকগঞ্জের হরিরামপুর দেখিয়ে ফরিদপুরের কবিরপুর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু তোলার এই মহোৎসবের কারণে আজ প্রায় এক হাজার পরিবার পথে বসে গেছে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”
ভুক্তভোগী এক কৃষক রাসেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বালু উত্তোলনের এই অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে ছোট-বড় রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্টরা জড়িত। ক্ষমতার দাপটে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। আজ আমরা নিঃস্ব হয়ে গেলাম, অথচ কারো কোনো টনক নড়ল না।”
ভুক্তভোগী বৃদ্ধা আছিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বালু কাটার কারণে আজ ভিটেমাটি হারিয়ে আমরা পথের ফকির হয়ে গেছি।”
এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা ও সরোয়ার এই অবৈধ বালু উত্তোলন চিরতরে বন্ধ করতে এবং স্থায়ী ভাঙন রোধে প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জরুরি ও জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো রাকিব হাসানের সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম ঢে...
বগুড়া প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা দেশে ২০ ...
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্র...
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় পৃথক অভিযান চালিয়ে ২৪ কেজি গাঁজাসহ চ...
ফরিদপুর প্রতিনিধি: ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার আগে বাংলাদ...

মন্তব্য (০)