নিউজ ডেস্কঃ জুলাই সনদে দেয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এ কিছুটা ছাড় দেয়ার ব্যাপারে বিএনপি বিবেচনা করতে পারে, তবে এ জন্য বিরোধীদলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে— এমনটাই জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ সৃষ্টি করে উচ্চকক্ষের স্পিকারকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করার বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে বিশেষজ্ঞদের কাছে থেকে।’
গতকাল (শনিবার, ২৪ অক্টোবর) সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গণভোটে পাশ হওয়া বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে চলছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক। শনিবার কমিটির নবম বৈঠকেও নেই বিরোধীদলের কোনো সদস্য। তবে অংশ নেন, সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষাবিদ সলিমুল্লাহ খান, শাহাদিন মালিকসহ দেশের ৪৪ জন প্রথিতযশা সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ পদ্ধতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংসদের স্থায়ী কমিটিতে বিরোধীদলের অংশগ্রহণ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পদ্ধতি এবং ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে দিনব্যাপী আলোচনা হয়।
পরে সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও সংবিধান সংশোধন কমিটি একটি রাজনৈতিক বিরোধ। তবে যে প্রক্রিয়াই হোক না কেন, এর লক্ষ্য অর্জনই মুখ্য।
তিনি বলেন, ‘সুপ্রিমকোর্টে বিচারক নিয়োগ আইন এবং সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় আইন যে বাদ করা হয়েছে, এটা নিয়ে আমি হতাশা প্রকাশ করেছি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে নাকি সংবিধান সংশোধন কমিটি হবে—এটা একটি রাজনৈতিক বিরোধ, এটার মধ্যে আমি যেতে চাচ্ছি না। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সংবিধানে যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই সংস্কার। আমি বিশ্বাস করি, আল্টিমেটলি আমরা লক্ষ্যটা অর্জন করতে পারছি কি না, সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
এদিকে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেছেন, তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে বিচার বিভাগের মতামত নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আইনজীবীরা।
সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘অনেকেরই বক্তব্য, যে ক্ষমতা আছে, সেটাই যথেষ্ট। আসলে সংবিধানে সবকিছু লেখা নেই। আমাদের ধৈর্য এবং আইন মানার মানসিকতা থাকতে হবে। মানসিকতা ঠিক থাকলে, সংবিধানে সবকিছু লেখা থাকার তো দরকার নেই।’
বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সবার সম্মতিতে উচ্চকক্ষের স্পিকারকে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করা নিয়ে নতুন প্রস্তাব এসেছে।
তিনি বলেন, ‘স্পিকার উচ্চকক্ষের যদি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃজন করা হয়, সেক্ষেত্রে একজনের প্রস্তাব আছে যে, ভাইস প্রেসিডেন্টকেই উচ্চকক্ষের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার। অথবা যদি বিকল্প থাকে, সেক্ষেত্রে বিরোধীদল সরকারি দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে, সেই স্পিকারকেই তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা যায় কি না এবং স্পিকার বাদে অন্যান্য যারা উপদেষ্টা থাকবেন, তারাও সরকারি দল-বিরোধীদলের সম্মতিতে ওখান থেকেই যদি উপদেষ্টা নিযুক্ত হন, সেটার একটা বিধান থাকতে পারে— এরকম অনেকে মতামত দিয়েছে।’
নোট অব নোট অফ ডিসেন্ট শিথিল করতে চাইলে বিরোধীদলকে কমিটিতে এসে কথা বলার আহ্বানও জানান সংসদীয় কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিরোধীদলকে আহ্বান জানিয়েছি, এখনো জানাই— আমরা যদি প্রত্যেকের মতামত পাই, যে বিরোধীদল যদি চায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্ট শিথিল করার জন্য, সেটা তাদেরকে কমিটিতে এসে বলতে হবে। তখন কমিটি বিবেচনা করতে পারে।’
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও খসড়া তৈরির কাজ শেষ করতে চায় সংবিধান সংশোধন কমিটি। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপনের লক্ষ্য নেয়া হয়েছে।
মন্তব্য (০)