আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে তাইওয়ানকে লক্ষ্য করে আড়াই মিলিয়নেরও বেশি বিতর্কিত বা ভুয়া অনলাইন তথ্য ছড়িয়েছে চীন। তাইওয়ানের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বেইজিং তাদের অপপ্রচারমূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে।
চলতি সপ্তাহে আইনপ্রণেতাদের কাছে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে তাইওয়ানের ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি ব্যুরো’ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে এ ধরনের ভুয়া ও বিতর্কিত তথ্যের পরিমাণ আগের বছরের ১.৬৯ মিলিয়নের চেয়ে প্রায় ৪৮% বেড়ে ২.৫ মিলিয়নেরও বেশিতে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নভেম্বরে তাইওয়ানের সিটি মেয়র এবং কাউন্টি ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে চীন থেকে ছড়ানো বিষয়বস্তুগুলোতে মূলত জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা নীতি এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীদের ইশতেহার ও ভাবমূর্তিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে চীনের ‘তাইওয়ান অ্যাফেয়ার্স অফিস’ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বেইজিং, যা তাইওয়ানের আপত্তি তোয়াক্কা না করে দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে, পূর্বে তাইওয়ানের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করা বা অপপ্রচার চালানোর কথা অস্বীকার করেছে।
তাইপে যেন বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি মেনে নেয়, সেজন্য চীন ক্রমাগত সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে। প্রতিদিনের সামরিক মহড়া থেকে শুরু করে সাইবার হামলা পর্যন্ত চীনের এসব ‘গ্রে-জোন’ (ধোঁয়াশাপূর্ণ কৌশল) পদ্ধতি নিয়ে তাইওয়ান বারবার অভিযোগ জানিয়ে আসছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেইজিং প্রায়শই তাদের সরকারি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিভিন্ন বয়ান তৈরি করে এবং পরে তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘অনলাইন ট্রোল বাহিনী’ ও জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়। এসব কৌশলের মধ্যে রয়েছে কনটেন্ট ফার্ম, এআই-উৎপাদিত ভিডিও, ভুয়া অ্যাকাউন্ট এবং পরিকল্পিতভাবে প্রচুর মন্তব্য করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “তথ্য বিকৃতি ও ম্যানিপুলেশনে চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে, যার উদ্দেশ্য ভোটারদের সমর্থন ও নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করা।”
নিরাপত্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, তাইওয়ানের সাম্প্রতিক বিষয়াবলি, প্রার্থীদের নীতি এবং জরিপের তথ্য সংগ্রহ করতে চীন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যাতে অপপ্রচারের ক্ষেত্র তৈরি করা যায়। এর মাধ্যমে “ভোটারদের মতামত ও নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার” উদ্দেশ্যে এআই-চালিত তথ্য বিকৃতির পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, বার্তাগুলো মূলত ফেসবুক, থ্রেডস, ইউটিউব এবং বিভিন্ন অনলাইন ফোরামসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ছড়ানো হয়েছে।
তাইপে-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘আইওআরজি’ (IORG)-এর সাথে রয়টার্সের করা এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একটি তথ্যযুদ্ধে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ‘ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি’র (ডিপিপি) সমালোচক—যার মধ্যে বিরোধী দল ‘কুওমিনতাং’-এর সাথে যুক্ত ইনফ্লুয়েন্সার ও রাজনীতিবিদরাও রয়েছেন—তাদের বক্তব্যকে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরছে।
ন্যাশনাল সিকিউরিটি ব্যুরোর তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে তাইওয়ানের সরকারি সংস্থাগুলোতে চীনা সাইবার হামলার সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন ২৫.৮ লাখে পৌঁছেছে। চিহ্নিত হুমকিগুলোর পরিমাণ জুন মাস থেকে হঠাৎ বেড়ে যায় এবং তা জুলাই মাসে ১৮.৫৬ কোটি ও আগস্ট মাসে ১০.৬৪ কোটিতে পৌঁছায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “বছরের শেষের দিকে তাইওয়ানের ‘নাইন-ইন-ওয়ান’ নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার লক্ষ্যে এটি পূর্বাম্নে তথ্য সংগ্রহ এবং হয়রানিমূলক প্রস্তুতি হতে পারে—এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
তথ্যসূত্র: রয়াটার্স
মন্তব্য (০)