• সমগ্র বাংলা

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সুইটির পরিবার জানে না মৃত্যুর খবর

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সংগৃহীত

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নারী সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তার পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পরও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাননি তার পরিবারের সদস্যরা। মেয়ের মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন বাবা-মা। 

সরকারি নথি অনুযায়ী, সুইটি আক্তারের জন্ম ২০০১ সালের ১১ আগস্ট। ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘এস রানা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়ার বহির্গমন ছাড়পত্র পান তিনি। দেশটিতে তার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ‘আল মাজাল আল আরাবি গ্রুপ কোম্পানি’।

গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

তারা হলেন, সিতি আখতার ও নাজেরুল ইসলাম আবদুল বশির। বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই নারীর নাম সুইটি আক্তার এবং যুবকের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশির হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও রাজকীয় আদেশের পর গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের এ সাজা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে বিষয়টি জানায়নি বলে জানিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনসুলেট। এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য চেয়ে কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তারা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিচারপ্রক্রিয়া ও আদালতের রায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এদিকে সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর তার গ্রামের বাড়িতে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যরা এখনো মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি।

মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর জানান, সুইটি আক্তারের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি। সুইটির বোনের স্বামী আবদুল বারেক আনসার বাহিনীর সদস্য হিসেবে পূজার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে ডেকে এনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সুইটি আক্তারের ছবি দেখানো হলে তিনি ওই নারীকে নিজের শ্যালিকা হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি তিনিও নিশ্চিত করতে পারেননি।

সুইটি আক্তারের বাবা ফজল ও মা জহুরা বেগম মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মেয়ে মারা গিয়ে থাকলে সরকার যেন দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। এজন্য তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সৌদি আরবে সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত তার কাছে কোনো তথ্য আসেনি।

মন্তব্য (০)





image

রাজশাহীতে বন্ধ কলকারখানা চালুর জন্য সরকার কাজ করছে: রিজভী

১

রাজশাহী প্রতিনিধি :  রাজশাহীতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো...

image

খুলনায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৭

২

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্...

image

যশোরের শার্শায় প্রকাশ্যে পিস্তল প্রদর্শনের অভিযোগ, এলাকায়...

৩

বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের শাড়া...

image

সাতকানিয়ায় পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণ, বন বিভাগের তদন্তের...

৪

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামে...

image

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ এক ...

৫

​চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলায় ডাকা...

  • company_logo