রংপুর ব্যুরো : শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রথমবারের মতো রংপুর সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে রংপুর নগরীর ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ মন্দির (ধর্মসভা) ও কালিবাড়ি মন্দির পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।পূজামণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারপ্রধানকে একনজর দেখার অপেক্ষা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমীতে আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল থেকে রংপুর নগরী ও জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে চলছে পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি ও কুমারী পূজা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ধুনুচি নাচে মুখরিত পূজামণ্ডপগুলো।এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পূজা উদ্যাপনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
চলতি বছর রংপুর নগরীসহ জেলায় মোট ৯৬৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদ্যাপিত হচ্ছে।উৎসবের এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সমস্যা সমাধান, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নেও সরকারের বিশেষ নজর প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
সৈয়দপুর থেকে রংপুরে প্রধানমন্ত্রী
নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিশেষ উড়োজাহাজে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে পৌঁছে সড়কপথে রংপুর নগরীতে আসবেন তিনি। সকাল ১১টার দিকে ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ মন্দিরে তাঁর পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা,এরপর কালিবাড়ি মন্দির পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রংপুর নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মন্দির এলাকা ও আশপাশের স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এসএসএফ, এনএসআই, বিজিবি, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন। সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মু. মাহবুবুর রশীদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ধর্মসভা,ও কালিবাড়ি মন্দির এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই প্রথম দুর্গোৎসব দেখতে রংপুরে আসা আমাদের জন্য আনন্দের ও গৌরবের।’
রংপুর ব্যাটালিয়ন(৫১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে বিজিবিসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিমানবন্দর থেকে রংপুর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে বাড়তি প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান সামু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো দুর্গোৎসব দেখতে রংপুরে আসছেন-এ খবরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করি, এই সফরের মাধ্যমে রংপুরের গ্যাস সংকট দূরীকরণ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘদিনের দাবিগুলো সরকারের বিশেষ নজরে আসবে।’
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে রংপুরে আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি নগরীর উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করা এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে তাঁর সফর ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি বলেন, ‘রাধা গোবিন্দ ও কালিবাড়ি মন্দির পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অসাম্প্রদায়িক চেতনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির বার্তা দেবেন বলে আশা করি। তাঁর আগমন পূজারিদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উত্তরাঞ্চলের মানুষ এই সফরকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।’
সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা
আজ মহাঅষ্টমী উপলক্ষে সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়ছে।পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি ও কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হচ্ছে দিনটি। সন্ধ্যায় অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী সন্ধিপূজা।প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মন্দিরগুলোতে প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুর্গোৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হবে।
রংপুরে এবার দুর্গোৎসবের আনন্দে যোগ হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বাড়তি উচ্ছ্বাস। উৎসবের এই আবহে উত্তরাঞ্চলের মানুষ যেমন সম্প্রীতির বার্তা প্রত্যাশা করছেন, তেমনি গ্যাস সংকট নিরসন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে রংপুরের সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়ার আশাও করছেন।
মন্তব্য (০)