মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরায় আট দিনের ব্যবধানে ৩২ হাজার ইয়াবাসহ দুই নারী গ্রেপ্তার মাগুরা সদর উপজেলার কুকনা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ সময় চার হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ছয় লাখ টাকা, একটি প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল, একটি ওয়াকিটকি সেট ও একটি স্টিলের লকার উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানের সময় দীপ্ত কুমার বিশ্বাস (৩২) নামে এক ব্যক্তি পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৭ অক্টোবর) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে মাগুরা সদর থানাধীন কুকনা এশিয়া মহিলা কলেজপাড়ায় কলেজটির পুরোনো হোস্টেলের পেছনে সবুজ নামে এক ব্যক্তির একতলা ভবনের একটি ভাড়া বাসায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সম্পা দাস (৩২) ও পূর্ণিমা রানী বিশ্বাস (৫৫)। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্পা দাস দীপ্ত কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী এবং পূর্ণিমা রানী বিশ্বাস তাঁর মা। তাঁদের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর থানার চাপড়ী এলাকায়। গ্রেপ্তারের সময় সম্পা দাসের কোলে তিন মাস বয়সী একটি কন্যাশিশু ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মাগুরা জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম (সেবা)-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) থান্দার খায়রুল হাসান, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে এসআই মো. মেহেদী হাসানসহ ডিবির একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।
পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দীপ্ত কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাঁর ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গ্রেপ্তার দুই নারীর দেখানো মতে একটি স্টিলের লকার থেকে ২০টি নীল জিপার পলিতে রাখা চার হাজার পিস হালকা কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ছয় লাখ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সম্পা দাসকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির সামনে থেকে আরও কয়েকটি সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি পিত্তি রঙের টয়োটা করোলা প্রাইভেটকার, একটি হলুদ-কালো রঙের নম্বরপ্লেটবিহীন অ্যাপাচি মোটরসাইকেল এবং ‘BAOFENG’ লেখা একটি কালো ওয়াকিটকি সেট।
উদ্ধার হওয়া প্রাইভেটকারটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-১২-৮৯৯৪। গাড়িটির মডেল টয়োটা করোলা-১০০। মোটরসাইকেলটির ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বরও পুলিশি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো। তবে এসব যানবাহনের মালিকানা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহারের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
মাগুরা জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই নারী নিজেদের একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি দলের সদস্য বলে জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, পলাতক দীপ্ত কুমার বিশ্বাসসহ তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
মাগুরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক ও জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে জেলার সব থানা এলাকায় সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মানবাধিকার রক্ষা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কথাও জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে মাদক, জুয়া ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মাগুরায় মাদকবিরোধী এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় মাদক সরবরাহের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং উদ্ধার হওয়া যানবাহনের ব্যবহার সম্পর্কে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন এখন গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং অভিযোগের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
মন্তব্য (০)