• সমগ্র বাংলা

চাঁদাবাজির মামলায় নওগাঁর আত্রাইয়ের আলোচিত প্রতারক সিফাত মাহমুদ জেল হাজতে

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সংগৃহীত

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আলোচিত চাঁদাবাজ ও প্রতারক সিফাত মাহমুদ নামের এক ব্যক্তিকে আদালত জেল-হাজতে পাঠিয়েছে। আত্রাই উপজেলার ২নং ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন মন্ডলের কাছে ২০লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মামলায় আদালত তাকে জেল হাজতে নিয়েছে।

বুধবার নওগাঁর চিপজুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে উপস্থিত হয়ে জামিন চাইলে না মঞ্জুর করে সিফাত মাহমুদকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন বিচারক নজরুল ইসলাম। গত ৩জুন ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ ৮নং আমলী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (আত্রাই) ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান মো. নাজিম উদ্দিন মন্ডল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। সিফাতের এমন খবরে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বস্তি প্রকাশ করেছে এবং সিফাতের দীর্ঘ সময়ের জন্য দৃষ্টান্তরমূলক শাস্তিও দাবী করেছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার সোনাইডাঙ্গা গ্রামের ওসমানের ছেলে মো. সিফাত মাহমুদ ফাহিম (৩৮) নিজেকে ডিবি, সিআইডি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে এলাকার অর্থবান, গুরুত্বপূর্ণ ও সরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। আসামি বিভিন্ন সময় সরকারি ও ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা প্রদান করেন এবং জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করে আসছেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বেলা ১১টার দিকে আসামি ফাহিম তার ৫-৬ জন অজ্ঞাতপরিচয় সহযোগীকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যানের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা না দিলে “পূর্ব বাংলার সর্বহারা বাহিনী” দ্বারা তাকে হত্যার হুমকি প্রদর্শন করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত সিফাত মাহমুদ ফাহিমের বিরুদ্ধে এর আগেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার থানায় ও আদালতে চাঁদাবাজি ও প্রতারণাসহ নানা অনিয়মের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার দ্বারা প্রতারিত ও চাঁদাবাজির শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, সিফাত নিজেকে বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পেশাকে সে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। যদি কেউ তার চাহিদা পূরণ না করতো তখন সেই ব্যক্তি কিংবা কর্মকর্তাদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে উল্টাপাল্টা মিথ্যে তথ্য দিয়ে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতো। অর্থশালী ব্যক্তিদের বিভিন্ন ভাবে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই মূলত সিফাতের প্রধান কাজ। একের পর এক এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী অবিলম্বে এই প্রতারক সিফাতের কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মামলার বাদী ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মন্ডল অভিযোগে জানান, ঘটনার পর থেকে আসামি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করে আসছেন। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় থানায় অভিযোগ করলেও আশানুরূপ প্রতিকার না পাওয়ায় তিনি আদালতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনও সিফাতের ভয়ে তার বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতো না। সিফাতের আয়ের কোন নির্দিষ্ট উৎস না থাকলেও সম্প্রতি সে ৭-৮লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল ক্রয় করেছে। মানুষকে জিম্মি করে অবৈধ ভাবে লাখ লাখ টাকা আয় করলেও দুদক কিংবা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সিফাতের বিষয়ে জেনেও না জানার ভ্যান করে থাকে। যার কারণে আত্রাইসহ আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষরা সিফাতের অতাচার থেকে রেহাই পায়নি। এই চাঁদাবাজের দৃষ্টান্তরমূলক শাস্তি হওয়া বর্তমানের সময়ের দাবী বলে মনে করেন এই জনপ্রতিনিধি।

মন্তব্য (০)





  • company_logo