• সমগ্র বাংলা

ফরিদপুরে সারের ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়ম ও বাণিজ্যের অভিযোগ: তৃণমূলে ক্ষোভ, ফেসবুকে তোলপাড়

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুর জেলাজুড়ে সারের নতুন ডিলারশিপ প্রদানকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতা-কর্মীদের একাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের অভিযোগ—যোগ্য ও বিগত দিনে হামলা-মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অরাজনৈতিক ও সুবিধাবাদীদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় কৃষকদের সঠিক সময়ে ও নিয়মিত সার সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার সম্প্রতি নতুন করে সারের ডিলারশিপের জন্য আবেদন আহ্বান করে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের দাবি, দলীয় ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীরা এই সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে লাইসেন্স বণ্টন করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে নগরকান্দা উপজেলায় বিএনপির একদল কর্মী ও স্থানীয় জনতা সংবাদ সম্মেলন ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিটি সারের লাইসেন্স বা ডিলারশিপের জন্য ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিমালার তোয়াক্কা না করে লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাদের এই প্রতিবাদ ও অভিযোগকে প্রশাসন বা সার সংক্রান্ত কমিটি অদৃশ্য কোনো কারণে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ইস্যু নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। সম্প্রতি ফরিদপুর সদরের বিএনপির প্রবীণ কর্মী নান্টু খান তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন— "আমার সারের লাইসেন্স লাগবে না; বিএডিসি’র কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্স বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের ডিলারশিপ চাই।"

অন্যদিকে, সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বিএনপি কর্মী বাশার মৃধা গত ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন— "একদিকে অর্থের বিনিময়ে সার ডিলার নিয়োগের পায়তারা, অন্যদিকে দেশ-বিদেশ থেকে বিএনপির নামধারী ধনাঢ্য ব্যক্তিরা স্বজনদের জন্য টেলিফোনে তদবির করছেন। এমন সময়ও গেছে যখন ওয়ার্ড পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার মানুষ পাওয়া যায়নি, অথচ এখন চারপাশে তথাকথিত বিএনপির ভিড়।" জেলাজুড়ে আরও শতাধিক নেতা-কর্মী একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ ঝাড়ছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির জেলার শীর্ষ পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

নিয়ম অনুযায়ী, সারের ডিলারশিপ ও লাইসেন্স যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের জন্য উপজেলা পর্যায়ে একটি সার মূল্যায়ন ও মনিটরিং কমিটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এই কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগের তীর মূলত এই কমিটির কার্যক্রমের দিকেই উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, "সারের লাইসেন্স সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও নিয়মতান্ত্রিক তদন্তের মাধ্যমেই দেওয়া হয়েছে। কারো কাছ থেকে কোনো অনৈতিক সুবিধা বা টাকা নেওয়া হয়নি। যারা লাইসেন্স পাননি বা বঞ্চিত হয়েছেন, তারাই মূলত এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।"

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তৃণমূলের একাধিক বিএনপি কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা মন্তব্য করেছেন— "যাহা রটে, তাহার কিছুটা হলেও ঘটে।" তারা পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ কোনো উচ্চতর কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য (০)





image

৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকার ক্যাথল্যাব অকেজো: ফরিদপুর মেডিকেলে দু...

১

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কেনাকাটায...

image

পঞ্চগড়ে মেঘ-কুয়াশা সরতেই ধরা দিল কাঞ্চনজঙ্ঘা

২

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: কখনো বরফের মতো শুভ্র সাদা, কখনো সূর্যের আল...

image

চাটমোহরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনের...

৩

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার চাটমোহরের পৌর সদরের নারিকেল পাড়া মহ...

image

পঞ্চগড়ে অবৈধভাবে পাচারের সময় ১২০ বস্তা সার জব্দ

৪

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় অবৈধভাবে সার পাচারের...

image

চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচা’র আলোচনা ...

৫

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগ...

  • company_logo