• উদ্যোক্তা খবর

শাপলার শুটকিতেই চলে তাদের জীবিকা

  • উদ্যোক্তা খবর

ছবিঃ সিএনআই

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা।আর এই ফুলের সৌন্দর্য্য মুগ্ধ করে তার দর্শনার্থীদের। আবার এই শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন অনেক গরীব মানুষ। শাপলার সৌন্দর্য যেমন সুন্দর  তেমনি এটা পুষ্টি গুনে ভরপুর। বর্ষায় বিলে ফোটা হাজারো লাল শাপলা কেবল সৌন্দর্যের অনুষঙ্গ নয় এটি গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ডুমনি গ্রামের অনেক পরিবারের আয়ের উৎস ।

ডুমনী গ্রামের হতদরিদ্র বাসিন্দারা বিল থেকে শাপলা তুলে তা রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বানিয়ে বিক্রি করছেন পাইকারি বাজারে। বাড়তি আয়ের মুখ দেখে সংসারের অভাব দূর করছেন স্থানীয় শতাধিক পরিবার।

বর্ষা মৌসুমে প্রহলাদপুরের ডুমনি বিলের বিস্তীর্ন জলাভূমি জুড়ে প্রচুর শাপলা ফুটে। আর বিলের এই শাপলা তুলে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন ডুমনি গ্রামের  চারপাশে বাস করা কয়েকশত মানুষ। প্রতিদিন ভোরের আলো ফুটতেই কাঠের ডিঙি কিংবা তালগাছের কুষা নৌকা নিয়ে বিলে বেরিয়ে পড়েন ডুমনী গ্রামের  নাম না জানা অনেক মানুষ। উদ্দেশ্য একটাই—পারুলী ও ডুমনী বিল থেকে  ফুটে থাকা শাপলা সংগ্রহ করা। কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় সংগৃহীত শাপলা প্রখর রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় একধরনের শাপলার  শুঁটকি। শুধু বর্ষার সময়টাতে শাপলা বিক্রি আর শুঁটকি বানিয়ে আয়ের নতুন পথ খুঁজে পেয়েছেন এলাকার অস্বচ্ছল পরিবারগুলো। কারো নৌকায় একজন, আবার কেউবা ছোটেন স্বপরিবারে।প্রকৃতির এই সহজ দান কেবল বিলের পানিতে ভেসে থাকা কিছু রক্তিম পাপড়ি নয় এটি ডুমনী গ্রামের শত শত মানুষের কাছে টিকে থাকার এক নীরব বিপ্লব। যেখানে অভাবের কাছে মাথা নোয়ানোর বদলে, সূর্যের তাপ আর শাপলার প্রতিটি খাঁজে তারা বুনে চলছেন নিজেদেরর ভাগ্য বদলের গল্প।

শাপলা ফুল সংগ্রাহক  সিদ্দিক জানান, তালের ডিঙ্গি দিয়ে শাপলা তুলা কঠিন তাই এই বছর কাঠের নৌকা তৈরি করে শাপলা সংগ্রহ করছি সকালে বেরিয়ে দুই তিন ঘন্টা শাপলা তুলে বাড়িতে নিয়ে আসি। তারপর এগুলো প্রখর রোদে শুকিয়ে শুটকি তৈরি করা হয়। গতবছর ৬০-৭০ হাজার টাকা আয় করেছি এবার ভালো আয় হবে আশা করছি। 

আরেক নারী শাপলা ফুল সংগ্রাহক বলেন, বাড়িতে কাজের ফাঁকে ফাঁকে শাপলা সংগ্রহ করে শুটকি তৈরি করি। এতে সংসারের জন্য কিছু আয় হয় এবং ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার কাজে খরচ করতে পারি। এই বছর ১০ হাজার টাকার শাপলার শুটকি বিক্রি করেছি আরো বিক্রি করতে পারবো।

ডুমনি গ্রামের বাসিন্দারা জানান,  কয়েকদিন পরপরই স্থানীয় বাজারে পাইকাররা আসেন এই শুঁটকি কিনতে। বাজারে প্রতি কেজি শাপলার শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। দিনে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় দিয়ে পুরো মৌসুমে একেকটি পরিবার আয় করছেন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারে। 

ফুল সংগ্রাহক ইব্রাহিম বলেন অন্য ব্যবসায় পুঁজি লাগে কিন্তু শাপলার ব্যবসায় পুঁজি লাগে না। আমাদের গরীবদের জন্য এ ব্যবসাই ভালো। কয়েকটা দিন অন্তত  পেট ভরে কয়টা ভাত খেতে পারি। তবে শাপলা প্রতি বছর এক জায়গায় ফুটেনা।  

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শফিকুল ইসলাম বলেন , তাজা শাপলার পাশাপাশি এই শুকনো শাপলার শুঁটকিতেও রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফাইবারসহ  নানা পুষ্টিগুণ। যা সাধারণ পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে দারুণ ভূমিকা রাখছে। তাছাড়া  শাপলা ফুল সাধারণ সবজি থেকে অনেক বেশি পুষ্টি ভেষজ  গুনে ভরপুর।এটি আলু থেকেও ৭ গুন বেশি ক্যালসিয়ামে ভরপুর এ্যালার্জি, চর্মরোগ, আমাশয়,  এ্যাসিডিতেও এটা বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। মানুষিক রোগেও এর ব্যবহার করা হয়।

মন্তব্য (০)





image

‘স্বপ্ন সারথী’র উদ্যোগে অদম্য তরুণদের সাফল্য অর্জনে সংবর্ধনা

১

নিউজ ডেস্ক : আর্থিক অসচ্ছলতা বা সামাজিক প্রতিকূলতা কোনোটিই য...

image

বাড়ির আঙিনায় ২০০ প্রজাতির ফুল, তাতেই কর্মসংস্থান

২

নড়াইল প্রতিনিধি : হরি নদীর কূল ঘেঁষা ছোট্ট মেঠো রাস্তা। রাস্...

image

উদ্যোক্তা তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের মূল লক্ষ্য:...

৩

নিউজ ডেস্কঃ উদ্যোক্তা তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই বর্তম...

image

তরুণদের উদ্যোক্তা হতে অর্থায়ন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

৪

‎নিউজ ডেস্কঃ দেশের উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী...

image

বিলে হাস পালন করে বেকার তরুণদের দিন বদল

৫

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইল জেলায় বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকার বি...

  • company_logo