নিউজ ডেস্কঃ নতুন জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেডভেদে চিকিৎসা, যাতায়াত ও মোবাইল ভাতাসহ বেশ কিছু ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় বয়স ও গ্রেডভেদে চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা এবং মোবাইল ভাতা সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ি ভাতার হার কমানো, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমা আট বছরে নামিয়ে আনা এবং কয়েকটি বিশেষ ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
এখনো নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। দফায় দফায় গেজেট জারির সময় পেছানো হলেও নতুন করে একাধিক তারিখ আলোচনায় এসেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামোর সারাংশ আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আগামী বুধবারের মধ্যে ভেটিং সম্পন্ন করা গেলে চলতি মাসেই গেজেট জারি করা হতে পারে। তবে প্রশাসনিক কাঠামোয় কোনো জটিলতা তৈরি হলে এ কার্যক্রম পিছিয়ে যেতে পারে। নবম পে-স্কেলের গেজেট জারির জন্য একাধিক সম্ভাব্য সময় বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন হলে আগামী ১৭, ২১ অথবা ২২ সেপ্টেম্বর গেজেট জারি হতে পারে। ভেটিং শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি বাড়ি ভাড়া ভাতা। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় তা কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমানে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় এ হার হবে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। আর সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে বর্তমানে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দেওয়া হবে। তবে মূল বেতনের তুলনায় বাড়ি ভাড়া শতাংশ হারে কমলেও গ্রেডভেদে মূল বেতন দ্বিগুণ বা তারও বেশি বাড়ায় ভাতার টাকার অঙ্কও বাড়বে। অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় ভাতার হার কমিয়ে মূল বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে মোট আর্থিক সুবিধার ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
পরিবর্তন আনা হচ্ছে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রেও। বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে পদোন্নতি না হলেও উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন কাঠামোয় এ সময় কমিয়ে আট বছর করা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে ছয় বছর একই গ্রেডে চাকরির শর্ত থাকছে।
চাকরিজীবনে পদোন্নতিযোগ্য পদে কর্মরতরা পদোন্নতি না পেলে সর্বোচ্চ দুইবার এ সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই এবং ‘ব্লকড পদ’ হিসেবে ঘোষিত, সেসব পদে কর্মরতরা চাকরিজীবনে তিনবার উচ্চতর গ্রেড সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ব্লকড পদে কর্মরতরা প্রথমবার আট বছর, দ্বিতীয়বার আরও ছয় বছর এবং তৃতীয়বার পরবর্তী আট বছর চাকরির পর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুবিধা পাবেন।
নতুন পে-স্কেলে চিকিৎসা ভাতায়ও বড় পরিবর্তন আসছে। বর্তমানে সব কর্মচারী মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সি চাকরিজীবীরা পাবেন ৩ হাজার টাকা। ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সিদের জন্য তা হবে ৪ হাজার টাকা। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা ভাতা বাড়ছে। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিরা মাসে ৫ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সিরা ৬ হাজার টাকা পাবেন।
এবারই প্রথম সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বর্তমানে শুধু প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা মোবাইল বিল পান। নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডে মাসে ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কয়েকটি ছোট ভাতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে বেড়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করা হচ্ছে।
তবে বাংলা নববর্ষ ভাতা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে। পাহাড়ি ভাতা এবং হাওড়, দ্বীপ ও চরভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই থাকছে। তবে এসব ভাতার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন কাঠামোয় ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান হারের তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতার কাঠামোও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের হিসাবে, নতুন কাঠামোয় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্তব্য (০)