নিউজ ডেস্ক : মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার দক্ষ কর্মী বিনা খরচে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুনামগঞ্জে এক মতবিনিময়সভায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এসব কর্মী মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং তাদের কোনো খরচ বহন করতে হবে না।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা এবং ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকি প্রতিরোধবিষয়ক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার বৈধ পথে কর্মীদের বিদেশ পাঠানোর জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এসব কর্মীকে দক্ষতা ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করে বিদেশে পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু বিদেশ যাওয়ার আগ্রহ থাকলেই হবে না, কাজ ও ভাষা শিখে দক্ষ হয়ে বিদেশে যেতে হবে। সুনামগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ভাষা শিক্ষার কোর্স চালুর জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা হলে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হবে।
সভায় অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা ও দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব দালালের ফাঁদে পড়ে সুনামগঞ্জের যুবকেরা অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন এবং অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের অবৈধভাবে বিদেশ পাঠানোর সঙ্গে জড়িত দালালদের নাম-ঠিকানাসহ তালিকা আগামী সাত দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। বিদেশে অবস্থানরত দালালদেরও সংশ্লিষ্ট দেশের সহযোগিতায় দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার কথা জানান মন্ত্রী।
অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ভয়াবহতা এবং বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার সুফল তুলে ধরতে হবে। এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সূচনা সুনামগঞ্জ থেকেই হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, বৈধ সুযোগের অভাবে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে আইএলওর ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. শহীদুল ইসলাম চৌধুরী সভায় উপস্থাপিত এক প্রেজেন্টেশনে সুনামগঞ্জের যুবকদের অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষসারিতে রয়েছে, যা উদ্বেগজনক। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকেও বাংলাদেশিদের অবৈধ অভিবাসনের বিষয়টি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সম্প্রতি সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার কয়েকজন যুবক লিবিয়া হয়ে সাগরপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো, দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং নিরাপদ ও দক্ষ অভিবাসন নিশ্চিত করতে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এবং সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী।
এ ছাড়া সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (০)