নিউজ ডেস্কঃ ‘পত্রপত্রিকা পড়ে রাজনীতির কথা বলা যাবে না। সবাই আপনারা জানতে পারবেন।’ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে এ মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার সকালে রাজধানী ঢাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা বিএনপি মহাসচিবের কাছে জানতে চান। ‘রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, এ বিষয়ে বিএনপি কী ভাবছে’—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পত্রপত্রিকা পড়ে রাজনীতির কথা বলা যাবে না।’
সফরসূচি অনুযায়ী, চিকিৎসা শেষে ২৬ জুলাই ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরার কথা জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের। কিন্তু রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অনুরোধের পর দুদিন আগে আজ শুক্রবার দেশে ফেরেন স্পিকার। এর সঙ্গে পদত্যাগের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা- এমন প্রশ্নে বিএনপির বলেন, ‘সবাই আপনারা জানতে পারবেন।’
এদিকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছুই বলেননি স্পিকার। স্পিকারের ভাষ্য- রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানা নেই তাঁর। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হওয়ায় দেশে ফিরেছেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ বিদেশে থাকায় তিনি কিছুই জানেন না। পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকরা যেমন শুনেছেন, তিনিও তেমনই শুনেছেন। শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তিনি। বিমানবন্দরে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম তাঁকে স্বাগত জানান।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি কী করবেন, না করবেন সেটি আমি জানি না। তিনি রাষ্ট্রপতি দেশের প্রথম ব্যক্তি।’
স্পিকার বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে ছিলাম। সুতরাং এখানে কে পদত্যাগ করবে, না করবে তা আমার জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব। যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তবে স্পিকারের কাছে করবেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। এটাই সংসদীয় রীতি।'
সফর সংক্ষিপ্ত করে কেন দেশে ফিরলেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার ঢাকায় কিছু ব্যক্তিগত কাজ আছে। গতকাল আমার মেডিকেল চেকআপ যেহেতু শেষ হয়েছে, তাই আমি দেশে ফিরে এসেছি।’
‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’-এর আয়োজক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিকস (দায়রা)। সকালে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন শুরু হয়। এরপর দায়রার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ভূরাজনীতি, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা পরিবর্তন নিয়ে সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্যের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরা উপস্থিত আছেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা)-এর আয়োজনে এই সম্মেলনের মূল থিম ছিল ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড আ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস, অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’। সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মন্তব্য (০)