নিউজ ডেস্ক : ভারতে বিজেপি সরকারের প্রশাসনিক নীতি ও ব্যবস্থার প্রতিবাদে তরুণ ও নাগরিক সমাজের ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) আন্দোলনকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে প্রয়োজনে তিনি নিজেও এই আন্দোলনে যোগ দেবেন বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলে একুশে জুলাইয়ের (শহীদ দিবস) সভামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই ঘোষণা দেন।
বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘লুটেরা বিজেপির থেকে দেশ বাঁচান। দরকার হলে ককরোচদের কর্মসূচিতে আমি নিজেও যাব। প্রথম থেকেই আমাদের সমর্থন ছিল, আছে এবং থাকবে’।
এরআগে গতকাল সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের ওপরে পুলিশের এলোপাথাড়ি লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ার তীব্র সমালোচনাও করেছিলেন মমতা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেওয়া এক পোস্টে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। যে সরকার নিজের দেশের ছাত্রদেরই ভয় পায়, তাকে কেমন সরকার বলা যায়? যে গণতন্ত্রে মানুষের প্রশ্নের জবাব সংলাপের মাধ্যমে নয়, লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস দিয়ে দেওয়া হয়, তাকে কেমন গণতন্ত্র বলা যায়?’
প্রসঙ্গত, ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (এনইইটি)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে তরুণদের প্লাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের কাছে প্রশ্ন বিক্রি হওয়ায় লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
তাদের ভারতে প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার মেডিকেল আসনের জন্য প্রতিযোগিতা করেন। অনেক পরিবার সন্তানদের কোচিং করাতে সঞ্চয় ব্যয় করে বা ঋণ নেয়। প্রশ্নফাঁসের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় হতাশ হয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক ডজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে দেশজুড়ে জনসমর্থন গড়ে তোলে সিজেপি।
জুনের শুরুতে দিল্লিতে প্রথম বড় কর্মসূচি পালন করে সিজেপি। মাসের শেষ দিকে দ্বিতীয় দফায় বিক্ষোভ শুরু করে তারা। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে যোগ দেন লাদাখের প্রকৌশলী ও শিক্ষা অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশন শুরু করেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় অনশন চলার পর ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আদালত তার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন। পরে অনশনের ২০তম দিনে দিল্লি পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ এটিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পদক্ষেপ বললেও একে বেআইনি আটক বলে দাবি করে ‘চলো সংসদ’ নামে লংমার্চ কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি।
সোমবার (২০ জুলাই) সিজেপির ডাকে হাজারো মানুষ মধ্য দিল্লিতে জড়ো হন। আগের রাত থেকেই অনেক আন্দোলনকারী অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিভাবকেরাও বিক্ষোভে অংশ নেন।
তবে দিল্লি পুলিশ সংসদমুখী পদযাত্রার অনুমতি না দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসায় এবং কিছু এলাকায় ইন্টারনেট সেবা সীমিত করে। এরপরও দুপুরের আগেই ২০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভস্থলে জড়ো হন। পার্লামেন্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন।
সূত্র: নিউজ১৮
মন্তব্য (০)