ছবিঃ সংগৃহীত
নিউজ ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার কারণে বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত প্রায় ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি আজ মঙ্গলবার (৮ জুন) সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সরকারি দলের সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। প্রশ্নে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ কোনো অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন মাস পর্যন্ত শুধু এই চার খাতেই অতিরিক্ত প্রায় ৪২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন হতে পারে।'
তিনি জানান, অতিরিক্ত ভর্তুকির মধ্যে তেল খাতে প্রায় ১০ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা, গ্যাস খাতে ১১ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ খাতে ১৯ হাজার ৮২১ কোটি টাকা এবং সার খাতে ১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য তাৎক্ষণিক ও সম্ভাব্য উভয় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত এর প্রভাব প্রধানত জ্বালানি, সার, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিদ্যুৎ, পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে ব্যয় বাড়িয়ে বাজারদর ও মূল্যস্ফীতির ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রবাসী শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান কর্মক্ষেত্র। ফলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপরও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অবলম্বন এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
নিউজ ডেস্ক : ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার না করার আহ্...
নিউজ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ড...
নিউজ ডেস্কঃ বিশ্বশান্তিতে অবদান রাখা শান্তিরক্ষীদের অভি...
নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম তারকা খেল...
নিউজ ডেস্ক : জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)...

মন্তব্য (০)