নিউজ ডেস্কঃ বিদেশে অবস্থানরত নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রবাসীদের যেকোনও অসুবিধা বা অভিযোগ জানাতে বিনামূল্যে যোগাযোগের জন্য ১৬১৩৫ নম্বরে একটি টোল-ফ্রি হটলাইন চালু রয়েছে। এছাড়া এজেন্সিগুলোর বাইরে গিয়ে নারী কর্মীদের সরাসরি বিদেশে পাঠাতে একটি ‘অ্যাডভান্স পুল’ তৈরির চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার।
আজ সোমবার (৮ মে) বিকালে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের (বাজেট অধিবেশন) দ্বিতীয় দিনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরু এসব তথ্য জানান।
এসময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এর আগে, অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসন-৪৪-এর সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ তার প্রশ্নে বলেন, ‘বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। তাদের নিরাপত্তা, বেতন বঞ্চনা, চুক্তি লঙ্ঘন ইত্যাদি ছাড়াও প্রায় ৯৪ শতাংশ নারী শ্রমিক যৌন নির্যাতনের শিকার হন।’
নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য তাদের নিয়োগকর্তা যাচাই, বীমা ইত্যাদির পাশাপাশি তাদের জন্য ২৪ ঘণ্টা হটলাইন এবং সেফ হোমের কোনও ব্যবস্থা করা হবে কিনা— প্রতিমন্ত্রীর কাছে তা জানতে চান এই নারী সংসদ সদস্য।
জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরু বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ১৬১৩৫ টোল ফ্রি একটি হটলাইন পরিচালনা করা হয়। দেশের বাইরে থেকেও যেকোনও প্রবাসী তাদের যেকোনও সেবা কিংবা অসুবিধার কথা এখানে জানাতে পারেন। অভিযোগ পেলে আমরা এখান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এছাড়া বাইরের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমেও তাদের সেবা দেয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘আগে অনেকগুলো দেশের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ছিল না। এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এমওইউ হচ্ছে। যার ফলে শ্রমিকদের মর্যাদার প্রশ্নে কিংবা সোশ্যাল প্রোটেকশনের ক্ষেত্রে, কর্মক্ষেত্রে তারা হয়রানির শিকার হলে সেটির প্রতিকার দাবি করতে পারি।’
সেফ হোম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী সংসদকে জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটো সেফ হোম আছে। এছাড়া ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটা দেশে পর্যায়ক্রমে সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগের চেয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নারী শ্রমিকদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসার সংখ্যা এখন কিছুটা কমেছে। এছাড়া আইনি সহায়তা ও প্রতিকার পাওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাসের সমন্বয়ে সেখানে সহায়তা দেয়া হয়।
নারী কর্মীদের পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার এখন বেশি সতর্ক জানিয়ে নুরুল হক নুরু বলেন, ‘নারী শ্রমিকরা যেখানে যাচ্ছেন সেখানে কাজের পরিবেশ এবং আইএলও বা আন্তর্জাতিক সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী তারা সোশ্যাল প্রোটেকশনগুলো পাবেন কি না, সেগুলো নিশ্চিত করার পরেই আমরা তাদের পাঠাচ্ছি।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সব ক্ষেত্রে শ্রমিক পাঠানোর জন্য আমরা একটি ‘‘অ্যাডভান্স পুল’’ তৈরি করার কথা ভাবছি। যেন মন্ত্রণালয় এবং ওই দেশের নিয়োগকর্তারা সরাসরি এখান থেকে তাদের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী কর্মী নিতে পারে। এর মাধ্যমে এজেন্সির বাইরেও মন্ত্রণালয়ের একটি সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকবে।’
মন্তব্য (০)