পাবনা প্রতিনিধি : পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্মিত মার্কেটের পজিশন বা দোকান বরাদ্দ নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বে দুগ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২মে) দুপুরে সদর উপজেলার টেবুনিয়া বাজার মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
আহতরা হলেন মো: রোকন (৩৭), মোবিন উদ্দিন (৪৫) সজিবুল ইসলাম মাহিম (১৭), ওসমান গনী (৫৫) মো: মারুফ হাসান জয় (২৪) ও মো: রানা (৩৫)। এসময় চেয়ারম্যান সমর্থিত রানা (৪০), সাইফুল ইসলাম (২২), শফি (৪০) ও চেয়ারম্যানের ভাই মোহাম্মাদ আলী (৪৫)।
স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা জানান, টেবুনিয়া বাজার জামে মসজিদের সামনে মালিগাছা ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন মার্কেট নির্মান করছেন চেয়ারম্যান সৈয়দ মুন্তাজ আলী। নবনির্মিত মার্কেটের পজিশন নিয়ে শুরু থেকে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন চেয়ারম্যান। মার্কেটের নকশা প্রকাশ না করা, পজিশন ক্রেতা ও পূর্বের ঘর মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং কৌশলে পজিশন কমিয়ে কোটি টাকা মূল্যে পজিশন বিক্রির অভিয়োগ ওঠে। ভুক্তভোগীরা চেয়ারম্যান ও তার পেটুয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ওসি বরারব লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আহত ব্যবসায়ী ও মার্কেটের পজিশন মালিক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ফরহাদ জামান রুবেল, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী মারুফ হাসান ও গ্যাস ব্যবসায়ী রানা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে তারা জানতে পারেন, নবনির্মিত ইউপি মার্কেটে তাদের পজিশনের দৈর্ঘ্য প্রস্থ কমিয়ে দিয়েছে চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের কাছে জানতে গেলে নকশা না দেখিয়ে উল্টো তাদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন তিনি। এক পর্যায়ে তাদের মারধর করেন চেয়ায়ারম্যান ও তার লোকজন। খবর পেয়ে অন্য ব্যবসায়ী ও স্বজনরা ছুটে আসলে উভয়গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে কয়েকজনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মার্কেট নিয়ে কোন কথাই চেয়ারম্যানকে বলা যায় না। বলতে গেলেই চেয়ারম্যান মুন্তাজ, তার ভাই মোহাম্মদ ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়, মারপিট করে। কাশবন নামের একটি মিষ্টির দোকান মালিকেট কাছে কোটি টাকা নিয়ে তার সুবিধামতো বড় করে পজিশন করে দিচ্ছেন চেয়ারম্যান।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রোকন বলেন, ইতোপূর্বে চেয়ারময়ানের বিরুদ্ধে ইউএনও বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। এসি ল্যান্ডের কাছে দায়িত্ব দেয়া হলেও তারা কোন সুরাহা করেনি। আমি অভিযোগ দেয়ায় এর আগেও আমাকে মারপিট ও হুমকি ধামকি দিয়েছে। এরই জের ধরে আজও ওই সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের আঘাত করেছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ব্যাপারে মালিগাছা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মুন্তাজ আলী বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ সবসময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ইউপি মার্কেট স্থানীয় সরকারের নিয়মনীতি অনুারণ করেই করা হচ্ছে। যারা পজিশন কিনেছেন আর যারা পুরোনো মার্কেটের মালিক, তাদেরকে সরেজমিন ও বাস্তবতার আলোকে পজিশন বুঝিয়ে দেয়া হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়নি। মারামারির বিষয়টি অনাকাংকিত।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য (০)