• সমগ্র বাংলা

ইরাকে নির্যাতনের পর মৃত্যু, চার মাস পর দেশে ফিরল গোপালপুরের আলমগীরের মরদেহ

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সংগৃহীত

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নের পঞ্চাশ গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল হোসেনের একমাত্র ছেলে মো. আলমগীর হোসাইন জীবিকার আশায় ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট পাড়ি জমান ইরাকে। পরিবারের স্বপ্ন ছিল, বিদেশে গিয়ে ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের মাধ্যমে পরিবারের ভাগ্য বদলাবেন তিনি। একই সঙ্গে ওই এলাকার রিফাত আকন্দও ইরাকে যান।

পরিবারের অভিযোগ, বাংলাদেশি এক দালালের মাধ্যমে ইরাকে পৌঁছানোর পর আলমগীর ও তার সঙ্গীদের আরেকটি দালাল চক্র “গেমঘড়” নামক একটি আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাড়িতে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন লোককে অমানবিক পরিবেশে আটকে রাখা হতো। পরে তাদের বিভিন্ন মালিকের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বরাতে জানা যায়, দুই বা চার বছরের চুক্তির কথা বলে তাদের দিয়ে দিনে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হতো। কাজ করতে না চাইলে মারধর ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। এমনকি মাস শেষে প্রতিশ্রুত বেতনের অর্ধেক দেওয়া হতো।

এই অমানবিক পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে আলমগীর, রিফাত আকন্দসহ আরও দুইজন গ্রীসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় আরেক দালাল চক্র গ্রীসে পাঠানোর কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে প্রথমে ৮ লাখ টাকা এবং পরে আরও ৪ লাখ টাকা নেয়। মোট ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তাদেরকে কুর্দিস্তান-ইরাক সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পরিবারের ভাষ্যমতে, সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে দালালরা তাদের একটি বরফশীতল নদীতে নামতে বাধ্য করে। আলমগীর নদী থেকে উঠে আসার পর তাকে মারধর করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি আলমগীর মারা যান বলে পরিবার নিশ্চিত করেছে। এ দৃশ্য দেখে বাকি দুইজন নদী সাঁতরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আলমগীরের সফরসঙ্গী রিফাত আকন্দ নদীতে নিখোঁজ হন। এখন পর্যন্ত তার জীবিত বা মৃত কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর দালাল চক্র আলমগীরকে একটি গোপন স্থানে রেখে দিনের পর দিন পরিবারকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পর পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

পরে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আলমগীরের মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০২৬ সালের ৬ মে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

পরিবারের দাবি, “মামুন”, “সম্রাট” ও “আমি” নামের কয়েকজন ব্যক্তি এই দালাল চক্র পরিচালনা করে। জানা গেছে, সম্রাটের বাড়ি কুষ্টিয়ায়।

শোকাহত পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সবাইকে অবৈধ দালাল চক্রের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য (১)





image
image

আলফাডাঙ্গায় জাল দলিলে জমি নামজারি: বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে...

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জাল দলিল ও ভুয়া স্ব...

image

চাটমোহরের মথুরাপুরে আশিকের মৃত্যু মামলায় ষড়যন্ত্রমুলক ফাঁ...

পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর স্কুলপাড়া গ...

image

পাবনায় রিয়া হত্যা মামলার ৩ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, গুম করার ক...

পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনায় এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় মাত্র এক ঘণ...

image

বেনাপোলে এনসিপি নেতা নাসির উদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামল...

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোলে জাতীয় নাগরিক পার্টি ...

image

হাকিমপুরে ব্রাজিল সমর্থকদের আনন্দ শোভাযাত্রা

দিনাজপুর প্রতিনিধি: কয়দিন পরেই শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ।...

  • company_logo