• লিড নিউজ
  • আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের কঠিন পরীক্ষা, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে এখন বড় যে বাধা

  • Lead News
  • আন্তর্জাতিক

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসে আসার লড়াইয়ে ছিলেন, তখন থেকেই তিনি ইরানের প্রতি কট্টর অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির আওতায় ইরানকে যে ‘বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ’ দেওয়া হয়েছিল, তার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তিনি। 

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানো এখন অনেকাংশেই নির্ভর করছে ট্রাম্প তেহরানকে কতটা আর্থিক সুবিধা দেবেন তার ওপর। 

আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্যাকেজ

ওয়াশিংটন ডিসির মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ভাটানকা জানান, ‘ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে যেকোনো আপস বা সমঝোতার মূল চাবিকাঠি হলো অর্থ।’ 

মার্কিন ও আরব কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের কোষাগারের তালা খুলতে অনীহাই মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অচলাবস্থার প্রধান কারণ। যদিও পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অনেক প্রস্তাব বিনিময় হয়েছে, তবে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। 

ট্রাম্প গত এক দশক ধরে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে এসেছেন। পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে তিনি ইরানের অর্থনীতির ওপর যে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন, তা এখন তার নিজের জন্যই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি এখন ইরানকে বড় কোনো আর্থিক সুবিধা দেন, তবে তিনি যে কারণে ওবামার সমালোচনা করেছিলেন, সেই একই অভিযোগে তিনি বিদ্ধ হতে পারেন।

যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিনিময়ে ইরান চারটি উপায়ে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে- যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ, প্রণালী ব্যবহারের টোল বা মাশুল, ফ্রিজ করা সম্পদ ফেরত পাওয়া এবং সরাসরি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

এর মধ্যে ‘টোল’ আদায়ের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করছে। তারা কোনোভাবেই ইরানকে এই আন্তর্জাতিক জলপথের ‘গেটকিপার’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাজি নয়।

ইসরাইলি চাপ ও ট্রাম্পের সংকট 

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পার্সি মনে করেন, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে ট্রাম্পের জন্য এক বিশাল লড়াই। কারণ ইসরাইল যেকোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোর বিরোধী। তিনি বলেন, ‘এটি হতে পারে ইসরাইলের সঙ্গে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় সংঘাত। তারা এটি রুখতে তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করবে।’

বলাই বাহুল্য, ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে বিপর্যস্ত। প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশটির অন্তত ১২ বছর সময় প্রয়োজন। ফলে তেহরান চাইছে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা, যার মাধ্যমে তারা বিশ্ববাজারে স্বাভাবিকভাবে কেনাবেচা করতে পারবে। 

অন্যদিকে ট্রাম্পের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো নিজের ‘কট্টরপন্থি’ ভাবমূর্তি বজায় রেখে কীভাবে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো যায়। শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান অস্ত্রের চেয়ে অর্থের ওপরই বেশি নির্ভর করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

সূত্র: মিডল ইস্ট আই অবলম্বনে 

মন্তব্য (০)





image

ইরান চুক্তিতে সংশোধন চান ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গ...

image

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাই না, পরিষ্কার জা...

নিউজ ডেস্ক : পাকিস্তান আবারও পরিষ্কার করে দিয়েছে, স্বাধীন ফ...

image

চীনের একক আধিপত্যের বিষয়ে যে সতর্কবার্তা দিল যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন,...

image

ভারতের মানুষ যেভাবে ইসরাইলকে সমর্থন করে, তা ‘পাগলামির পর্...

নিউজ ডেস্ক : ভারতে ইসরাইলের প্রতি জনসমর্থনকে ‘পাগলামির...

image

আফগানিস্তানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিচ্ছে রাশিয়া

নিউজ ডেস্ক : রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম...

  • company_logo