ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক তৎপরতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। একইসঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল বা ফি আরোপের সুযোগ ইরান ও ওমান পেতে পারে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণমাত্রায় নিশ্চিত হয়নি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রস্তাবে ওই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফি আদায়ের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এতদিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে এ ধরনের টোল আরোপের নজির ছিল না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই অর্থ ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন ও অবকাঠামো পুনর্বাসনে ব্যবহার করতে পারে। তবে ওমানের অংশের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থান ইরান ও ওমান উভয় দেশের জলসীমার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্তকে কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে বাংলাদেশ সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত “বিধ্বংসী হামলা” দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হতে পারে যদি তেহরান হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখার নিশ্চয়তা দেয়। এ শর্ত পূরণ হলে “উভয়মুখী যুদ্ধবিরতি” কার্যকর থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে এবং এ লক্ষ্যে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পাকিস্তান উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে শেষ মুহূর্তে দেওয়া কূটনৈতিক বার্তা এবং ইরানের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি বহুপয়েন্ট প্রস্তাব এই সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করেছে। যদিও হোয়াইট হাউস-ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, চূড়ান্ত কোনো শান্তি চুক্তি এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং যুদ্ধবিরতির কাঠামো এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো নতুন অর্থনৈতিক বা নিরাপত্তা কাঠামো শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ এই পথ দিয়েই চলাচল করে। ফলে প্রণালিতে টোল আরোপ বা নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রিত চলাচলের যেকোনো ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
নিউজ ডেস্ক : সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অবস্থিত আল মিনহাদ বি...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালে বিধ্বংসী দুর্যোগে নিখোঁজদের অ...
News Desk: Unable to bring Iran under control and facing a prolonged military stalemate, U.S. ...
নিউজ ডেস্ক : ইরানকে বাগে আনতে না পেরে এবং সামরিক অচলাবস্থা ক...

মন্তব্য (০)