ছবিঃ সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক : সকালের শুরুতে ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা বা কফি—অনেকের জন্য এ যেন এক অপরিহার্য অভ্যাস। কেউ পছন্দ করেন ব্ল্যাক চা বা কফি, আবার কেউ দুধ-চিনি মিশিয়ে পান করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে প্রশ্ন রয়ে যায়—দুধ দিয়ে চা বা কফি খাওয়া কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর, নাকি এতে মূল উপকারিতা কমে যায়? পুষ্টিবিদ ও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিষয়টি একপাক্ষিক নয়; বরং নির্ভর করে পানীয়ের ধরন, প্রস্তুত প্রণালি এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর।
চা ও দুধের পুষ্টিগুণ
সবুজ ও কালো চা তৈরি হয় ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস উদ্ভিদের পাতা থেকে। এতে থাকা ক্যাটেচিন ও থিফ্ল্যাভিনস নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, খারাপ কোলেস্টেরল কমানো এবং কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ আছে।
অন্যদিকে দুধে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম, যা হাড় মজবুত রাখা, কোষ গঠন এবং শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অনেকের ধারণা, চা ও দুধ একসঙ্গে হলে উপকার আরও বাড়ার কথা। তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।
গবেষণার পর্যবেক্ষণ
কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, দুধে থাকা ক্যাসেইন প্রোটিন চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এর কার্যকারিতা কিছুটা কমাতে পারে। ফলে ব্ল্যাক চায়ের হৃদ্স্বাস্থ্যগত উপকার দুধ মেশালে কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তবে সব গবেষণায় একই ফল পাওয়া যায়নি। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, চা যথেষ্ট সময় ধরে ভিজিয়ে তৈরি করলে দুধ যোগ করলেও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শোষণে তেমন পার্থক্য হয় না। অর্থাৎ, চা তৈরির পদ্ধতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কফির ক্ষেত্রে কী বলা হচ্ছে
চায়ের মতো কফির ক্ষেত্রেও দুধ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কিছু সাম্প্রতিক গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে যে কফির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও দুধের অ্যামিনো অ্যাসিড একত্রে শরীরে প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে আর্থ্রাইটিস বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া দুধ মেশানো কফি ব্ল্যাক কফির তুলনায় কম অ্যাসিডিক হওয়ায় যাদের অ্যাসিডিটি বা হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হতে পারে।
তবে অতিরিক্ত কফি পান করলে শরীরে লৌহ ও ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে এবং ক্যাফেইন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে—এ বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কারা সতর্ক থাকবেন
যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাদের দুধযুক্ত চা বা কফি খেলে অস্বস্তি হতে পারে।
দুধ মেশানো কফি বারবার গরম করা উচিত নয়, এতে হজমে সমস্যা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত চা বা কফি—দুধ থাকুক বা না থাকুক—স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দুধ দিয়ে চা বা কফি পান করলে সবার ক্ষেত্রে একই প্রভাব পড়ে না। কারও জন্য এটি উপকারী, আবার কারও জন্য কিছু পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে পান করা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সূত্র: হেলথলাইন
নিউজ ডেস্ক : আধুনিক জীবনযাপন আমাদের শরীরে পানি পিপাসা অনুভব করার পদ্ধতিক...
নিউজ ডেস্ক : প্রতিদিনেই ডায়েট মেনে খাবার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পার্কে হন হন ...
নিউজ ডেস্ক : ‘ডিসমেনোরিয়া’—অর্থাৎ মাসিকের সময় তলপেটে...
নিউজ ডেস্ক : ডায়রিয়া অনেক সময় আতঙ্কের কারণ হলেও, ২৪ ঘণ্টার কম সময় ধর...
নিউজ : পৃথিবী যত বেশি ব্যস্ত ও কোলাহলমুখর হচ্ছে এবং আমাদের জীবনে স্ক্রি...

মন্তব্য (০)