• লিড নিউজ
  • জাতীয়

গুম ‘মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ’: বিচারপতি মঈনুল

  • Lead News
  • জাতীয়

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্কঃ গুমকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে একে ‘মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী।

‎তিনি বলেন, ‘গুম আসলে মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ। মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা শোক প্রকাশ করতে পারেন এবং দাফন-কাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন। কিন্তু কেউ গুমের শিকার হলে পরিবার জানতেই পারে না সে কোথায় আছে।’

‎ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি: একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎বিচারপতি মঈনুল আরও বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করে। আশা ও হতাশার মাঝামাঝি এক স্থগিত অবস্থায় তারা সামাজিক কলঙ্ক, আর্থিক সংকট ও একঘরে হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।

‎বিলিয়া আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, সাজ্জাদ হোসেন ও নূর খান লিটন; অধিকার-এর পরিচালক তাসকিন ফাহমিনা; বিলিয়ার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ একরামুল হক এবং বিলিয়ার পরিচালক রাষ্ট্রদূত এম. মারুফ জামান।

‎বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আগের সরকারের আমলে গুম ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। শেষ পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এর অবসান ঘটে। জুলাই যোদ্ধারা দেশকে কর্তৃত্ববাদ ও ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্ত করতে লড়াই করেছিলেন।

‎গত সরকারের আমলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিচারপতি মঈনুল বলেন, সে সময় চরম নৃশংসতা বিদ্যমান ছিল এবং যেখানে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের কেন্দ্রে ছিল গুম।

‎তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্র প্রায়ই ভুক্তভোগীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করত, যাতে এসব কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ‘মানবিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন ও দানবায়িত’ করা হয়েছিল, যাতে এসব কাজ সহজে সম্পন্ন হয়।

‎তিনি গুমের ঘটনাগুলোর তদন্তকে ‘কষ্টসাধ্য ও অত্যন্ত ক্লান্তিকর’ প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন, যা ভয়াবহ মাত্রার নিষ্ঠুরতার চিত্র উন্মোচন করে। তার মতে, নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ায় এ ধরনের লঙ্ঘন অব্যাহত ছিল।

‎বিচারপতি মঈনুল ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনকে ত্রুটিপূর্ণ বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এ আইন ছিল ‘দন্তহীন ও নখহীন’।  ফলে লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

‎তিনি আরও উল্লেখ করেন, সে সময় বিচার বিভাগ ‘বিচারিক অধীনতা’র শিকার ছিল। অনেক বিচারক স্বাধীনতার অভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চ্যালেঞ্জ করতে পারেননি।

‎তিনি বলেন, ‘বিচারিক স্বেচ্ছাচারিতার চেয়ে ভয়াবহ কোনো স্বৈরাচার নেই।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা একটি মানসিক অবস্থা, যা আদালতে যে পক্ষই থাকুক না কেন, বিদ্যমান থাকতে হবে।

‎বিচারপতি মঈনুল আশা প্রকাশ করে বলেন, প্যারিস নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর মাধ্যমে গৃহীত সংস্কারে মানবাধিকার সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে।

‎তিনি বলেন, সাহসী ও নির্ভীক বিচার বিভাগই ন্যায়বিচার নিরপেক্ষভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিশেষ করে গুম প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

‎তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালতের ওপর আস্থা রাখতে পারে।

মন্তব্য (০)





image

‎১৪ হাজার সাংবাদিকের ‘তথ্য ফাঁস’, ইসির ব্যাখ্যা

নিউজ ডেস্কঃ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড পেতে নির্বাচন কমি...

image

নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার নিষিদ্ধ, ব্যানার ব্যবহারে ইসি...

নিউজ ডেস্কঃ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ...

image

পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা: ইসি সানাউল্লাহ

নিউজ ডেস্কঃ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিন...

image

আপিলও খারিজ, নির্বাচন করতে পারবেন না মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী

নিউজ ডেস্কঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএ...

image

শুরু হলো ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি

নিউজ ডেস্কঃ ইংরেজি ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারির আগমনী জানান দেয় ...

  • company_logo