নিউজ ডেস্ক : পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার আইয়াজ সাদিক শুক্রবার তেহরিক তাহাফুজ আইন-ই-পাকিস্তান (টিটিএপি)-এর প্রধান মাহমুদ খান আছকজাইকে নিম্নকক্ষের নতুন বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। দীর্ঘদিন শূন্য থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নিয়োগ কার্যকর হয়েছে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে। খবর জিও টিভি।
পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাঈদ আহমদ মাইতলার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী ও ব্যবসা পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৭-এর ৩৯ নম্বর বিধির আওতায় স্পিকার মাহমুদ খান আছকজাইকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
দেশটির পাখতুনখাওয়া মিল্লি আওয়ামি পার্টি (পিকেএমএপি)-এর প্রধান আছকজাইকে এই পদে মনোনয়ন দেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। তার পূর্বসূরি ওমর আইয়ুব একটি মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর অযোগ্য ঘোষিত হলে পদটি শূন্য হয়।
প্রজ্ঞাপন জারির আগে পিটিআইয়ের একদল সংসদ সদস্য স্পিকারের কক্ষে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ব্যারিস্টার গওহর আলী খান, জুনায়েদ আকবর, আমির ডোগার, শাহরাম খান তারাকাই, লতিফ খোসা ও জামাল আহসান খান।
ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পিটিআই নেতা ওমর আইয়ুব এক্সে পোস্ট করে আছকজাইকে ‘আন্তরিক অভিনন্দন’ জানান। তিনি বলেন, এটি এক অনন্য সম্মান এবং আছকজাই ইনশাআল্লাহ দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করবেন।
মাহমুদ আছকজাইয়ের নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তিনি দেশকে চলমান সংকট থেকে বের করে আনতে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় সংলাপের আহবান জানিয়ে আসছেন। পিটিআই নেতারাও একাধিকবার বলেছেন, ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে সংলাপের ম্যান্ডেট টিটিএপি প্রধান আছকজাই ও আল্লামা রাজা নাসির আব্বাসের ওপর ন্যস্ত।
আজ জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেন, ইমরান খান সরকারপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার অনুমতি আছকজাইকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আছকজাই কী করা উচিত, তা তিনি সবচেয়ে ভালোভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই পিটিআই ও ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত চলমান। একাধিকবার ইসলামাবাদের দিকে পদযাত্রা করেছে পিটিআই, যার জেরে পুলিশি অভিযান ও গ্রেফতার হয়েছে।
একই সঙ্গে দলটি রাজনৈতিক ও আইনি চাপে রয়েছে। ৯ মে সহিংসতার অভিযোগে ইমরান খানসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা, যেমন শাহ মেহমুদ কুরেশি, ইয়াসমিন রশিদ প্রমুখ কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে চলতি মাসে পিএমএল-এন সিনেটর ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ শীর্ষ পর্যায়ে আস্থা গড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি নওয়াজ শরিফ, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, ইমরান খান ও ‘আরেকজন’—এই পাঁচ শীর্ষ নেতার বৈঠকের প্রস্তাব দেন এবং বলেন, আস্থা পুনর্গঠন ছাড়া রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটবে না।
তবে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, শীর্ষ পাঁচ নেতার বৈঠকের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পিটিআই কখনো সংলাপ থেকে সরে যায়নি, কিন্তু পাঁচ শীর্ষ নেতার মধ্যে আলোচনার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এদিকে পিটিআই মহাসচিব ব্যারিস্টার সালমান আকরাম রাজা ক্ষমতাসীন পিএমএল-এন নেতৃত্বাধীন সরকারকে সংলাপের প্রস্তাব স্পষ্ট করার আহবান জানান। তিনি বলেন, পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সংলাপই এগোতে পারে না।
মন্তব্য (০)