• সমগ্র বাংলা

পাবনায় দীর্ঘ ৬ বছর বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়ে অফিস সহকারির করুন মৃত্যু!

  • সমগ্র বাংলা
  • ১২ আগস্ট, ২০২২ ১৬:২০:৪৯

ছবিঃ সিএনআই

তোফাজ্জল হোসেন বাবু,পাবনাঃ পাবনার ভাঙ্গুড়ায় প্রায় ৬ বছর বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়ে ধুকে ধুকে আনোয়ার হোসেন (৫০) নামের এক (অফিস সহকারি) কেরানীর করুনভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন । তিনি দীর্ঘসময় বহিষ্কারাদেশ থেকে মানষিক হতাশা নিয়ে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানান জটিল অসুখে ভুগতেছিলেন। তিনি রুপসী এলাকার মৃত আহসান প্রাং এর ছেলে। 

বৃহস্পতিবার (১১আগস্ট) দুপুরের দিকে পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃতুকালে তিনি দুই সন্তানসহ অসহায় পরিবার রেখে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকাতে ব্যাপক সমালোচানা চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অষ্টমনিষা ইউনিয়নের প্রত্যান্ত এলাকাতে রুপসী উচ্চ বিদ্যালয় নামক একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। প্রতিষ্ঠাকালে রুপসী গ্রামের আহসান প্রাং (বর্তমানে মৃত) তার বড় ছেলে আনোয়ার হোসেনকে ওই বিদ্যালয়ের সহকারি পদে চাকুরী দিতে বিনামূল্যে ২৪ শতক জমি দান করেন । এর পর ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত হলে অফিস সহকারি আনোয়ার হোসেনও নিয়মিত ভাবে চাকুরী করে আসছিলেন। কিন্তু ২০১০ সালের দিকে বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. ছাইদুর রহমান প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগ পান এবং এর পর থেকেই  প্রধান শিক্ষকের অফিস সহকারীর সাথে তেমন বনি বনা হচ্ছিল না। তার এক পর্যায়ে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ২০১৬ সালের দিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করেন তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি অডিট করে বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পরে। মুলত তখন থেকেই বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক অফিস সহকারির মধ্যে সম্পর্কের চিড় আরও ফাটল ধরে তা সর্ম্পকের আরও বেশী অবনতি হয়।    পরের বছরই তাকে তৎকালীন বিদ্যালয়েটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ কর্তৃক অফিস সহকারি আনোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। 

এর পর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে নিতে বিভিন্ন দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে অফিস সহকারি আনোয়ার হোসেনকে। আশ্বাসও দিয়েছেন অনেকে সুবিধাও নিয়েছেন কেউ কেউ। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নি। অবশেষে অনোয়ার হোসেনকে চাকুরী থেকে ফাইনালী বাদ দেওয়ার নীল নকশা চুড়ান্ত হলে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মকবুল হোসেন এর নিকট গেলে তিনি অফিস সহকারীর বেতন বহাল রাখার মৌখিক আদেশ দেন । বেতন বহাল রাখতে বাধ্য হলেও  বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ছাইদুর রহমান অফিস সহকারি আনোয়ার হোসেনকে দিয়ে আর অফিস সহকারির কাজ করান নি। বরং অফিস সহকারির অফিস কক্ষ ও চেয়ার টেবিল আলমারির চাবি সকল কিছু ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আবু সাইদকে নিয়ে কাজ করিয়ে নিতে শুরু করেন এবং বর্তমান অবধি তিনিই অফিস সহকারির দায়িত্ব পালন করেন যাচ্ছেন। এদিকে বিদ্যালয়ের নিজ দায়িত্ব পালন করতে না পেয়ে দিন দিন হতাশায় ও মানষিক দুশ্চিন্তায় অফিস সহকারি অনোয়ার হোসেন নানান ধরণের অসুখে ভুগতে থাকেন। অবশেষ গত বৃহস্পতিবার পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থতায় দুই নাবালক সন্তান ও স্ত্রী রেখে তিনি মৃত্যবরণ করেন।

প্রসঙ্গত. বিদ্যালয়টি ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ ও প্রধান শিক্ষক সকলে মিলে নিয়োগসহ যাবতীয় কাজ স্বাভাবিকভাবেই পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে অফিস সহকারির ছেলে আকাশ আহম্মেদ কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, তার পিতা সব সময়ই বরখাস্ত ও চাকুরী, সংসার ও তাদের ভাবিষৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতেন। 

এ বিষয়ে রুপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি দায়িত্ব পালন কারী সহকারি শিক্ষক আবু সাইদ জানান, প্রধান শিক্ষক তার (অফিস সহকারি) উপর আস্থা রাখতে পারেন নি। তাই কাগজে কলমে তিন মাস সাময়িক বরখাস্ত দেখালেও তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় নি। 

ঘটনার বিষয়ে মির্জাপুর ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ জামাল উদ্দীন  জানান, রুপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারির সাথে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে।  দীর্ঘদিন সাময়িক বরখাস্ত করে দায়িত্ব থেকে দূরে রেখে তাকে মানুষিকভাবে নির্যাতন করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

এ বিষয়ে রুপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছাইদুর রহমান জানান, কমিটির জটিলতার কারণে অফিস সহকারির সাময়িক বরখাস্ত দীর্ঘ দিনেও প্রত্যাহার করা যায় নি। তবে তাকে  দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হলেও বেতন নিয়মিতই পেতেন।

মন্তব্য ( ০)





  • company_logo